ধোঁয়া ওঠা শীতের পিঠা
ফুটপাতের পাশে ছোট্ট একটা ভ্রাম্যমাণ দোকান। মাঘের কনকনে শীতের সন্ধ্যায় সেখানে পিঠা খেতে ভিড় জমিয়েছেন কয়েকজন তরুণ। দোকানের পাশে ফুটপাতে জ্বলছে দুটো চুলা। একটিতে মাটির খোলা, অন্যটিতে ভাপা পিঠা তৈরির পাতিল বসানো। পিঠা তৈরির ছাঁচে চালের গুঁড়ি নিয়ে তার ওপর গুড়, নারিকেল ছিটিয়ে দিয়ে ভাপে দিচ্ছিলেন দোকানি। খোলায় বানানো হচ্ছিল চিতই পিঠা। তৈরি হতেই গরম গরম ধোঁয়া ওঠা পিঠা উঠে যাচ্ছিল হাতে হাতে। সম্প্রতি নগরের জিইসির মোড়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
ফাস্টফুড সংস্কৃতির এই যুগেও শীতের গরম পিঠার জনপ্রিয়তা দিন দিনই বাড়ছে। নগরের বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে গড়ে ওঠা মৌসুমি পিঠাপুলির দোকানে ক্রেতাদের ভিড়ই তার বড় প্রমাণ। সূর্য ডোবার পরপরই দোকানিরা তাঁদের পিঠার পসরা বসান রাজপথে কিংবা অলি-গলিতে। উনুনে আগুন জ্বেলে একের পর এক পিঠা বানতে থাকেন তাঁরা আর অন্যদিকে ক্রেতারা গরম গরম পিঠা সাবাড় করতে থাকেন। মহানগরে বসেও গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খাবার উপভোগ করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না অনেকে। এসব দোকানে তিন থেকে পাঁচ টাকায় চিতই ও পাঁচ থেকে ১০ টাকায় ভাপা পিঠা পাওয়া যায়। চিতই পিঠার সঙ্গে সর্ষে বা ঝাল শুঁটকির ভর্তা ‘ফ্রি’ মেলে।
নগরের বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, জিইসি মোড়, কাজীর দেউড়ি, নিউ মার্কেট, আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তার মোড় আর ফুটপাতে গড়ে উঠেছে অগণিত অস্থায়ী পিঠার দোকান। এসব দোকানের বেচা বিক্রিও বেশ ভালো। এ ছাড়া নগরের ওয়াসার মোড়ে আছে অভিজাত পিঠা বিপণি ‘পিঠা শপ’। এই দোকানে পাটিসাপটা, নকশা পিঠা, পাক্কন পিঠাসহ হরেক রকম পিঠা বিক্রি হয়। পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন সুপার স্টোরে প্যাকেটজাত পিঠা বিক্রি হয়।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কথা হয় নিউ মার্কেট এলাকার পিঠার দোকানি ছাত্তার হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, দুই বছর ধরে তিনি ভাপা পিঠা তৈরি করছেন। সাংসারিক কাজের পাশাপাশি তিনি এ পেশা ধরে রেখেছেন। সীমিত খরচে ভালো লাভের আশায় প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পিঠা বিক্রি করেন। দিনে ৬০০ টাকা খরচ করে তিনি প্রায় ২০০ টাকা লাভ করেন। এ ব্যবসা করে তিনি মোটামুটি ভালোভাবে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। জিইসি মোড়ের পিঠা বিক্রেতা ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘অভাবের সংসারে শীতের দিনে ফুটপাতে পিঠা বিক্রি করে সংসার চালাতে হয়। প্রতিদিন প্রায় তিন থেকে ৪০০ পিঠা বিক্রি হয়। খরচ বাদ দিয়ে দিনে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা আয় হয়। ভাপা পিঠা তৈরিতে খরচ ও সময় দুটোই কম লাগে। তাই অল্প সময়ে বেশি আয় হয় বলে পিঠা তৈরিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি।’
ভোজনরসিকদের মধ্যেও শীতের পিঠা নিয়ে উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। নগরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তরুণ কর্মকর্তা জুনায়েদ আহমেদ বলেন, ‘কাজের চাপে সব সময় গ্রামের বাড়িতে যাওয়া হয় না। তাই শীতের পিঠা খাওয়ার সাধ মেটাতে ফুটপাত থেকে পিঠা কিনে খেতে হয়। স্বাদ-গন্ধে গ্রামের বাড়ির মতো না হলেও ভালো লাগে।’
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন