শীতেও ১৮ ঘণ্টা লোডশেডিং!
এই শীত মৌসুমেও কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় বিদ্যুতের লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতি এক ঘণ্টা পর তিন ঘণ্টা করে লোডশেডিংয়ের ফলে দিনে অন্তত ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকছে বিভিন্ন এলাকা। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর ও জেনারেটরসহ মূল্যবান জিনিস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে সামনের এসএসসি পরীক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ সাধারণ গ্রাহকেরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। ।
মাতারবাড়ি ইউনিয়নের মগডেইল এলাকার বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে ঘনঘন লোডশেডিয়ের কারণে একটিসহ গত এক বছরে তাঁর তিনটা জেনারেটর নষ্ট হয়েছে। সাহাবুদ্দিন জেনারেটরের মাধ্যমে বিভিন্ন দোকান ও বাসায় বিদ্যুৎ সরবরাহ দেন।
গোরকঘাটা সার্ভিসিং সেন্টারের পরিচালক লা থেং রাখাইন জানান, গত প্রায় তিন সপ্তাহে লোডশেডিংয়ের কারণে নষ্ট হওয়া ১০টি রেফ্রিজারেটর ও ২০টি টেলিভিশন মেরামতের জন্য তাঁর কাছে আনা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, বিদ্যুতের অভাবে তাঁরা নিজ নিজ কার্যালয়ের নথির ফটোকপি, কম্পিউটার কম্পোজসহ প্রয়োজনীয় কাজ সময়মতো সারতে পারছেন না।
কালারমারছড়া ইউনিয়নের আঁধারঘোনা এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, ‘লোডশেডিং বাড়লেও বিদ্যুতের বিল আগের চেয়ে কমেনি বরং বাড়ছে।’ তিনি জানান, মাস খানেক আগে দিনে ১৬-১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও এখন থাকছে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা ।
বড় মহেশখালী ইউনিয়নের জাগিরাঘোনার বাসিন্দা নুরুল আলম ও মিয়া হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর দিয়ে চালানো মেসিনে বিভিন্ন কাগজপত্র ফটোকপি করাতে হচ্ছে। এতে এক কপি ফটোকপি করতে খরচ হচ্ছে এক টাকা ৫০ পয়সার স্থলে চার-পাঁচ টাকা।’ গোরকঘাটা বাজারের মিষ্টি মুখের পরিচালক নুর হোসাইন বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে জেনারেটর দিয়ে হোটেল চালাতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।’
মহেশখালী পল্লী বিদ্যুতের জোনাল কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে চার মেগাওয়াট। কিন্তু বরাদ্দ মিলে এক-দেড় মেগাওয়াট। এ কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’ তবে রাত ১২টা থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত বিদ্যুতের অবস্থা বেশ ভালো থাকে বলে তিনি দাবি করেন।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন