বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

৫০-এর আনন্দযজ্ঞে

কাপ্তাই প্রতিনিধি | তারিখ: ৩১-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

অসংখ্য ছোট ছোট বাতি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল ছাত্রাবাস, একাডেমিক ভবন এবং ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থিত সব গাছপালা। ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কাপ্তাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট (বিএসপিআই) এমন জমকালো সাজে সেজেছিল। পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়েছিলেন এই আনন্দযজ্ঞে। ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি এই দুই দিন চলেছে হইহুল্লোড় আর আনন্দ।
পতাকা উত্তোলন করে এবং বেলুন উড়িয়ে ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার। এ সময় তিনি বিএসপিআইয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন একটি ছাত্রাবাস নির্মাণ করার ঘোষণাও দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মোস্তফা কামাল, রাঙামাটি রিজিয়নের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সরোয়ার হোসেন, বিএসপিআইয়ের অধ্যক্ষ আবদুল মালেক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুইছাইন চৌধুরী। এর আগে আনন্দ শোভাযাত্রা চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শিক্ষার্থী ছাড়াও অতিথিরা শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠান শুরুর একদিন আগে অর্থাৎ ২৫ জানুয়ারি অনেক শিক্ষার্থী বিএসপিআই ক্যাম্পসে চলে আসেন। অনেকে এসেছিলেন দীর্ঘ ৪০ বছর পর আবার কেউ কেউ দুই যুগ পর। পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছিলেন বহু প্রাক্তন শিক্ষার্থী। অনেক বছর পর সহপাঠীদের কাছে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা।
১১ বছরের নাতনি পিয়ালীকে নিয়ে এসেছেন দাদি ফিরোজা বেগম। তাঁর ছেলে মো. আলাউদ্দিন এই পলিটেকনিক থেকে পাস করে বর্তমানে ঢাকায় ব্যবসা করছেন। ৫০ বছরের উৎসবে যোগ দিতে ফিরোজা বেগম পরিবারের ১৭ সদস্য নিয়ে ঢাকা থেকে কাপ্তাই আসেন বলে জানান।
উৎসব উপলক্ষে বিএসপিআইয়ের ক্যাম্পাসে তৈরি করা হয়েছিল বিশাল প্যান্ডেল। তার নিচে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল দুই হাজার শিক্ষার্থীর। আট ফুট উঁচু এবং ৬০ ফুট দীর্ঘ মঞ্চও তৈরি করা হয়েছিল।
পঞ্চম ব্যাচের ছাত্র মুজিবুর রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিএসপিআইয়ের অনেক শিক্ষার্থী যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক অবদান আছে।’
বিএসপিআইয়ের প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমার নিজের ছেলেমেয়েরাও এই প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করে প্রকৌশলী হয়েছে। এখান থেকে পাস করে যাওয়া শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে চাকরি করছেন।’
আড্ডা, খুনসুটি আর স্মৃতিচারণার পাশাপাশি দুদিন ধরেই চলেছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উৎসব উপলক্ষে বইও প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।


সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন 

 
আপনার মতামত দিন