শিরোনাম:

বিব্রত হওয়ার কারণ দূর করা হোক

তথ্যমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি

| তারিখ: ৩১-০১-২০১৩

  • ৫ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ধন্যবাদ পেতে পারেন তাঁর সত্য ভাষণ ও সরল স্বীকারোক্তির জন্য। গত মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে তিনি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন সরকারের সাফল্য বর্ণনা করতে। তথ্যমন্ত্রী হিসেবে সরকারের সাফল্য জনগণকে অবহিত করা হয়তো তাঁর দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। শিক্ষা, কৃষি, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গত চার বছরে মহাজোট সরকারের সাফল্য বর্ণনার পাশাপাশি তিনি বিগত জোট সরকারের ব্যর্থতার চিত্রও তুলে ধরেন।
কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সাফল্যের চেয়ে সরকার-সমর্থক ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের বিষয়টিই সামনে আসে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ বা ছাত্রলীগ নামধারী কতিপয় উচ্ছৃখল সন্ত্রাসীর তাণ্ডব অবশ্যই গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে বিব্রত করছে।’ এ ছাড়া পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও সরকার বিব্রত বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী যখন সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ সম্পর্কে এ মন্তব্য করছিলেন, তখন ছাত্রলীগের কর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছিলেন। অবশ্য পিছিয়ে ছিল না বিএনপির সমর্থক ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলও। তাঁরা মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকতে ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন স্থানে ককটেল ফাটান। এ অভিযোগে ছাত্রদলের এক কর্মীকে পুলিশের হাতে তুলে দেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ পর্যন্ত না-হয় ঠিকই আছে। কিন্তু ছাত্রদলের মিছিল ঠেকানো কিংবা তাদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হবে কেন? বিএনপি আমলে ছাত্রদল এবং আওয়ামী লীগ আমলে ছাত্রলীগের কাছে নিশ্চয়ই ক্যাম্পাস লিজ দেওয়া হয়নি।
তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের কারণে সরকার বিব্রত। কিন্তু সরকার বিব্রত অবস্থা থেকে কীভাবে মুক্তি পেতে পারে, সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি। এর আগে প্রধানমন্ত্রীও এক সংবাদ সম্মেলনে ‘দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু গোয়াল শূন্য হয়নি, গত মঙ্গলবারের ঘটনাই তার প্রমাণ।
ঢাকার বাইরে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মাস্তানি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চলতে থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। এখন সেই ক্যাম্পাসে যারা অশান্তির ছায়া ফেলেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। বন্ধ হোক অস্ত্রের মহড়া ও ককটেলবাজি।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়ার পর সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। কিন্তু এখনো আশার আলো দেখা যায়নি। অতএব বিব্রত হওয়াই যথেষ্ট নয়। যে কারণে সরকার বিব্রত হচ্ছে, সে কারণ অপনোদনই জরুরি বলে মনে করি।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।


সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন 

 
২০১৩.০১.৩১ ০৭:৪৫
তাদের বিরুধে বেবসথা নিলে রুই বাছ তে কমবল উজার হবেযে। পরে বিরুধী দলকে টেংগাবে কি দিয়ে ?

Arafat Mahmud

Arafat Mahmud

২০১৩.০১.৩১ ১০:৫৯
সহিংস আচরনের বেলায় তাদের আর শিবিরের মাঝে কোনো ৌলিক তফাত নাি।

ABDUL MAJID QUAZI

ABDUL MAJID QUAZI

২০১৩.০১.৩১ ১২:৪০
ছাত্রদল আর বিএনপি দেশের অস্তিত্ব বিরুধী রাজনৈতিক সংঘটনকে সহায়তা করছে শুদু মাত্র ভোটে জিতার জন্য । অথচ তারা জানে না যেধিন এই দেশ বিরুধী দল [জামাত ] সামান্য একটু শক্তিশালি হয়ে উঠবে তখন শিবির [ছাত্রলীগের বুকে নয়] ছাত্রদলের বুকে অস্ত্র ধরবে আর জামাত বিএনপির বিরুদ্ধে। বয়স হয়ে গেছে, ততদিন, হয়ত বেচে থাকব না এই দৃশ্য দেখার জন্য । তবে অতীতে বিএনপি সরকার আমলে ছা্ত্রদলের উপর শিবিরের অত্যাচার আমরা দেখেছি। তা থেকে আজ যে ভবিষ্যত বানি দিচ্ছি তা অক্ষরে অক্ষরে ফলবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

M. Shawkat Ali

M. Shawkat Ali

২০১৩.০১.৩১ ১২:৫৪
সরকারের সত উদ্দশ্য থাকলে ব্যর্থতা স্বীকারের সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিকারের প্রচেষ্টাও লক্ষ্যনীয় হতো।

মাহতাব হোসেন # বাউফল # পটুয়াখালী #

মাহতাব হোসেন # বাউফল # পটুয়াখালী #

২০১৩.০১.৩১ ১৮:২৩
তথ্যমন্ত্রী জনাব হাসানুল হক ইনু সরকারের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি বিগত জোট সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরলেন কি কারণে তা বুঝলাম না ; এটা কি ভোটের রাজনীতি, নাকি রাজনীতির চরিত্রই এমন। বিগত জোট সরকারের ব্যর্থতার কারণেইতো বর্তমান মহাজোট সরকারকে জনগণ ব্যপক ভোটের ব্যবধানে জিতিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসিয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী শিক্ষা, কৃষি, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরায় আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, বিভিন্ন শ্রেণীতে ছাত্রদের উদ্ভট নিয়মে পাশ করানোর কারণে তারা পরবর্তী উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চতর ক্লাশে ভর্তি হতে গিয়ে ঝাকমূলে অকৃতকার্য হচ্ছে, ছাত্রলীগ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে শিক্ষা ব্যাবস্থার যে বারোটা বাজাচ্ছে, তাতে কি শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নতির কথাটা আদৌ যুক্তিসংগত ? কৃষিখাতে উন্নতি যা ঘটেছে বা ঘটছে, তার সুফল সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল উৎপাদনকারীরা পাচ্ছে না, যাতে এ উন্নয়নের সুফলের বিষয়টাও সামগ্রিকভাবে প্রশ্নসাপেক্ষ। বিদ্যুতের উন্নয়ন তো কুইক রেন্টালের ভেল্কিবাজির মাধ্যমে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকার নয়ছয় এবং চার বছরে অসংখ্যবার বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে রাষ্ট্র ও জনগণের ঘাড়ে অসহনীয় বোঝা চাপিয়ে দেয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।
তবে হ্যা, ছাত্রলীগের কারণে ও পদ্মাসেতুর ঘুষ সংক্রান্ত কেলেঙ্কারীতে সরকারের বিব্রত হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু জনাব হাসানুল হক ইনু `অথিতি বক্তা' হিসেবে এ বিষয়ে না বলে কোন আওয়ামী লীগার মন্ত্রী বললে আমাদের আমজনতার কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য হ'ত। আমরা আমজনতা আশা করবো, তার কথাই যেন সরকারের কথা হয়, এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দৈত্য ছাত্রলীগসহ সকল ছাত্র সংগঠন বাতিল ও সৈয়দ আবুল হোসেনের তথা দলীয় স্বার্থের উপরে দেশ ও জাতির স্বার্থকে স্থান দিয়ে পদ্মাসেতু কেলেঙ্কারীতে সঠিক ধারায় (মামলার ধারা নয়) সংশ্লিষ্ট মামলাটাকে এগিয়ে যেতে দিয়ে আমাদের স্বপ্নের পদ্মাসেতুকে ডুবন্ত অবস্থা থেকে জাগিয়ে তুলে সরকার নিজেকে তার বিব্রত অবস্থা থেকে কার্যকরভাবে উত্তরণ ঘটাবে।