সিরিয়া ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে: ব্রাহিমি
লাখদার ব্রাহিমি
সিরিয়াবিষয়ক জাতিসংঘ ও আরব লিগের শান্তিদূত লাখদার ব্রাহিমি সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, সিরিয়ায় সংঘাত ‘নজিরবিহীন ভয়াবহ’ স্তরে পৌঁছেছে। দেশটি ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো শহরের বুসতান আল-কাসর এলাকার নদীর তীর থেকে গত মঙ্গলবার পেছনে হাত বাঁধা ও মাথায়
গুলিবিদ্ধ অন্তত ৭৮টি লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই এলাকায় ব্যাপক গণহত্যা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস দাবি করেছে, আরও বহু লাশ ইতস্তত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, নদীতে ভাসছে। সরকারি বাহিনী দেড় শতাধিক মানুষকে এমন বর্বর কায়দায় হত্যা করেছে। এদের মধ্যে অনেক কিশোর রয়েছে।
সরকার অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে ইসলামপন্থী নুসরা ফ্রন্টকে দায়ী করেছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানায়, নিহত ব্যক্তিদের অনেককে তাদের স্বজনেরা শনাক্ত করেছে। স্বজনেরা বলেছে, সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানোয় নুসরা ফ্রন্টের জঙ্গিরা তাদের অপহরণ করেছে।
গত মঙ্গলবার গণহত্যার খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরই ব্রাহিমি উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। ব্রাহিমি বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদ শুধু বলবে, “আমাদের মতৈক্য হয়নি, তাই চলুন সুন্দর সময়ের জন্য প্রতীক্ষা করি।” এটা চলতে পারে না।’
ব্রাহিমি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, সিরিয়ার পরিস্থিতি এখন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা সমাধানে এখন নিরাপত্তা পরিষদের জোরদার ভূমিকা দরকার।’
গত বছর আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অনুমোদিত একটি শান্তি পরিকল্পনার ভিত্তিতে সিরিয়ার সংকট মোচনের চেষ্টা করছেন ব্রাহিমি। কিন্তু এতে কাজ হচ্ছে না। সংঘর্ষ চলছেই।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদবিরোধীআন্দোলন শুরুর পর থেকে ইতিমধ্যে নারী-শিশুসহ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এ ছাড়া দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে কয়েক লাখ সিরীয়।
কূটনীতিক সূত্র জানায়, নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ব্রাহিমি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতি ভয়ানক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এটি নজিরবিহীন। এই দুঃখজনক ঘটনার কোনো সীমা নেই। সবার চোখের সামনে ঘটছে এ ঘটনা। দেশটি একটু একটু করে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সহযোগিতা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ব্রাহিমি একই ধরনের কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তি বাশার সরকারের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপে প্রস্তাব পাসের চেষ্টা করছে। কিন্তু রাশিয়া ও চীন এতে বাদ সাধছে। এই দুই পরাশক্তি তিন দফা ভেটো দিয়েছে। এএফপি ও বিবিসি।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন