ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর পাশাপাশি একটি বিআরটিসি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার ক্যাম্পাসে এসব ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া পৃথক ঘটনায় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী সন্দেহে তিনজনকে মারধর করেছেন ছাত্রলীগের কর্মীরা।
তিন দিন ধরে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চেষ্টা করছে ক্যাম্পাসে ঢুকতে, আর ছাত্রলীগ চেষ্টা করছে তাদের ঠেকাতে। এ নিয়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থায় রয়েছে।
গতকাল বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকায় জনতা ব্যাংকের কর্মীদের বহনের জন্য থামিয়ে রাখা বিআরটিসির একটি দোতলা বাসে কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সময়ে ওই এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে পথচারীরা বাসের আগুন নিভিয়ে ফেলেন। এ ঘটনায় বাসটির চালক রাজুকে আটক করেছে শাহবাগ থানার পুলিশ। ছাত্রলীগ এসব ঘটনার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেছে।
এ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আমজাদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগামীকালের হরতাল সামনে রেখে এ নাশকতা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ এর আগে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্রদল কর্মী হাবিবুল বাশারকে মারধর করেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিম চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে গেলে সেখান থেকে তিনি পালিয়ে যান। বেলা ১১টায় মল চত্বরে শিবির কর্মী সন্দেহে আরবি বিভাগের আবদুল্লাহ আল ফারুক এবং কলা ভবনের সামনে বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হাদিউজ্জামানকে মারধর করেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। পরে হাদিউজ্জামানকে পুলিশে সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আমজাদ আলী বলেন, যাঁদের মারধর করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র হাতে হামলাকারী ছাত্রের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।
তানজিল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না জানতে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি এ প্রসঙ্গে কথা বলতে চাননি।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন