জেলহত্যা মামলা

আপিলের পরবর্তী শুনানি ৫ ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ৩১-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের ওপর শুনানি আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে।
গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয়জন বিচারপতির বেঞ্চ আপিলের ওপর পঞ্চম দিনের মতো শুনানি গ্রহণ করেন।
গতকাল শুনানিতে এই মামলায় নিয়োজিত রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি আনিসুল হক বিচারিক আদালতের রায়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও আসামিপক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।
শুনানিতে আনিসুল হক বলেন, সাক্ষীদের বক্তব্যে দেখা যায়, বঙ্গভবনে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছে। সেখানে খন্দকার মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে কে কারাগারে যাবেন, সেই সিদ্ধান্ত হয়। মোসলেহ উদ্দিনের সঙ্গে আরও দুজন যাবেন বলে সাক্ষীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। অপর দুজন হলেন দফাদার মারফত আলী শাহ ও দফাদার মো. আবুল হাশেম মৃধা। এর ধারাবাহিকতায় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। বিচারিক আদালত বলেছেন, সাক্ষীদের বক্তব্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। তবে প্রকৃতপক্ষে তাঁদের জবানবন্দি পড়ে দেখা যায়, কোথাও কোনো অসামঞ্জস্য নেই। সে ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতের রায়ে সাক্ষীর জবানবন্দির ব্যাপারে যথেষ্ট ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়।
পরে আনিসুল হক প্রথম আলোকে জানান, আগামী মঙ্গলবার শুনানি হবে। ওই দিন তিনি যুক্তি উপস্থাপন করবেন।
আপিলের অনুমতি পাওয়ার প্রায় দুই বছরের মাথায় ১৫ জানুয়ারি আপিলের ওপর প্রথম শুনানি শুরু হয়। পরে আদালত ২২, ২৩ ও ২৯ জানুয়ারি এবং গতকাল আপিলের ওপর শুনানি গ্রহণ করেন।
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর রাতে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতা—সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে।
পরদিন তৎকালীন কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে পলাতক আসামি রিসালদার (ক্যাপ্টেন) মোসলেহ উদ্দিন, দফাদার মারফত আলী শাহ ও দফাদার মো. আবুল হাশেম মৃধাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
এরপর ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মারফত আলী শাহ ও আবুল হাশেম মৃধাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় রিসালদার মোসলেহ উদ্দিনের। এ ছাড়া চারজন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি পান। অন্য আট আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ বহাল থাকে।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।


সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন 

 
আপনার মতামত দিন