বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় কয়লাভিত্তিক ২৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন স্থগিত করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থগিতের সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন।
বাতিলযোগ্য দরপত্র বিধিবহির্ভূতভাবে গ্রহণযোগ্য দেখানোর তথ্য গোপন করে ৯ জানুয়ারি দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নেওয়া হয়। এর মধ্যে বড়পুকুরিয়ার প্রকল্পটি সম্পর্কে আগেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির কাছে অভিযোগ ছিল।
মন্ত্রিসভা কমিটির ৯ জানুয়ারির সভার কার্যবিবরণীতে কমিটির আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বক্তব্য হচ্ছে, বড়পুকুরিয়ার প্রকল্পটি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যে অভিযোগ ছিল এবং তার তদন্তও চলছিল, সে তথ্য মন্ত্রিসভা কমিটির জানা ছিল না। পরে এ বিষয়ে তাঁর (অর্থমন্ত্রী) কাছেও অভিযোগ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ওই প্রকল্পের বিষয়ে মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা প্রয়োজন।
মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পাওয়া অন্য বিদ্যুৎ প্রকল্পটি হচ্ছে ঘোড়াশাল ৪৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র। এটি সম্পর্কেও সংসদীয় কমিটির কাছে বড়পুকুরিয়ার মতো একই অভিযোগ রয়েছে। সংসদীয় কমিটি বিষয়টি তদন্ত করার উদ্যোগ নিচ্ছে।
বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রটি স্থাপনের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল চীনের হারবিন ইলেকট্রিক ইন্টারন্যাশনাল (এইচইআই) ও এর সহযোগী সিসিসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। ঘোড়াশাল ৪৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে কনসোর্টিয়াম অব চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি) এবং সাংহাই ইলেকট্রিক করপোরেশনের (এসইসি) কনসোর্টিয়ামকে।
হারবিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কোম্পানিটি দরপত্রের চাহিদা অনুযায়ী অভিজ্ঞতার সনদ দিতে পারেনি। যেসব যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ চাওয়া হয়েছে, তার কোনো কোনোটি দেওয়ার কথা দরপত্রে উল্লেখ করেনি বা দামও ধরেনি তারা। এভাবে তারা দরপ্রস্তাব কম রেখেছে।
দরপত্র বাতিলের বিধান (রিজেকশন ক্লজ) অনুযায়ী ওই কারণে হারবিনের দরপ্রস্তাব বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তার পরিবর্তে হারবিনের কাছে ওই সব বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে দরপত্র বহাল রেখে তাদের সর্বনিম্ন দরদাতা দেখানো হয়। এই বিষয়গুলো মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
হারবিন এর আগেও অংশ নেওয়া দরপত্রগুলোতে কোনো না-কোনো যন্ত্রাংশ সরবরাহের বিষয় উল্লেখ না করে প্রস্তাবিত দর কম দেখিয়ে কাজ নিয়েছে। পরে কোনোভাবে যোগসাজশ করে কম দামের অন্য যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে। এবারও আর্থিক মূল্যায়নে যোগ্য বিবেচিত না হলেও হারবিনকেই কাজটি দেওয়ার জন্য কৌশল করা হচ্ছিল।
এ ব্যাপারে হারবিনের প্রতিপক্ষ সিএমসি-এসইসি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটে (সিপিটিইউ) অভিযোগ করে। সিপিটিইউ অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দরপত্র প্রক্রিয়া বন্ধ রাখতে বলেছিল। কিন্তু পরে সিএমসি অজ্ঞাত কারণে তাদের অভিযোগ প্রত্যাহার করে।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন