রাতের আঁধারে চুরি হয়ে যাচ্ছে সড়কের গাছ
প্রথমে ডালপালা কেটে নিয়ে চোরেরা গাছগুলোকে মেরে ফেলছে। এরপর তারা সুযোগ বুঝে রাতের আঁধারে গোড়া থেকে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আর এভাবে গত চার মাসে ঠাকুরগাঁওয়ের দুরামারি কান্দর-রুহিয়া সড়কের তিন শতাধিক কাঁঠালগাছ কেটে নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ডালপালা না থাকায় ওই সড়কের বেশ কিছু গাছ দেখে চেনার উপায় নেই সেগুলো কাঁঠালগাছ। গাছগুলো এরই মধ্যে মারা গেছে। ওই সড়কের পুরাতন ঠাকুরগাঁও এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বেশ কিছু গাছ গোড়া থেকে করাত দিয়ে কেটে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নির্মল রায় জানান, প্রতি রাতেই চোরেরা সরকারি গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে। গত তিন-চার মাসে সড়ক থেকে তিন শতাধিক কাঁঠালগাছ চুরি হয়েছে।
একই এলাকার রাজেশ চন্দ্র জানান, চোরেরা গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন মাটি খুঁড়ে ওই গাছের গোড়ার অংশ শিকড়সহ তুলে নিয়ে যাচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই চুরি হওয়া গাছের আর কোনো চিহ্ন থাকে না। লক্ষ্মীরহাট এলাকার আবদুর রহিম বলেন, ‘রাতে গাছ কাটার শব্দ শুনলেও ভয়ে ঘর থেকে রেব হতে পারি না। গাছ কাটার কথা প্রশাসনকে জানিয়েও তেমন কাজ হয়নি।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওই সড়কের দুই পাশে প্রায় ১৫ হাজার কাঁঠালগাছের চারা রোপণ করে। পরে সদর উপজেলার আকচা, রাজাগাঁ ও রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদকে (ইউপি) গাছগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ জন্য ইউপি কার্যালয় থেকে বেশ কয়েকজন লোক নিয়োগ করা হয়। গাছের শুকনো ডালপালা ও ফল বিক্রি করে তাঁদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হতো। ২০০৩ সালে জেলা পরিষদ ইউপির কাছ থেকে গাছগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এর পর থেকে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে একের পর এক গাছগুলো চুরি হতে থাকে।
আকচা ইউপির চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মণ বলেন, ‘গাছগুলো ইউপির দায়িত্বে থাকাকালে এলাকার লোকজন ডালপালা কাটার সাহস পেত না। সে সময় কাঁঠাল বিক্রি করে দুই থেকে তিন লাখ টাকা রাজস্ব আয় হতো। জেলা পরিষদের উদাসীনতার কারণে এখন গাছগুলো চুরি হয়ে যাচ্ছে।’
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতানুল ফেরদৌস ওরফে নম্র জানান, ২৮ জানুয়ারি সকালে রুহিয়া যাওয়ার পথে তিনি গুনে দেখেছেন ওই সড়কের ৩০৫টি কাঁঠালগাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। চোরের হাত থেকে গাছগুলো রক্ষার জন্য বিষয়টি তিনি জেলা আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা সভায় তুলবেন।
যোগাযোগ করা হলে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, ‘গাছগুলো চুরি হয়ে যাচ্ছে দেখে নিজের কাছেই খারাপ লাগছে। এসব গাছ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো জনবল বরাদ্দ নেই। তবুও আমরা গাছগুলো রক্ষায় চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন