বগুড়ায় নিহত মিজানুর রাজনৈতিক কর্মী নন!
বগুড়ায় হরতাল চলাকালে সংঘর্ষে নিহত দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে একজন আবু রোহানী ছাত্রশিবিরের কর্মী হলেও অপরজন মিজানুর রহমান সাধারণ ব্যবসায়ী ছিলেন। জামায়াত বা কোনো দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল না। কারা কেন তাঁকে এভাবে মারল, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হরতাল চলাকালে সংঘর্ষে নিহত দুজনকেই ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগ নিজেদের কর্মী বলে দাবি করে। ঘটনার প্রতিবাদে বগুড়া শহর জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মাজেদুর রহমান আগামী শনিবার শহরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকেন।
নিহত আবু রোহানীর পরিবার থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনি শিবিরের সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখার সভাপতি ছিলেন। রোহানীর ভগ্নিপতি হারুনুর রশীদ প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, রোহানী সরকারি আজিজুল হক কলেজে সম্মান তৃতীয় বর্ষে পড়তেন এবং শিবিরের কলেজ শাখার সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
শহরতলির সাবগ্রাম বাজারে নিহত মিজানুর রহমানকে জামায়াত তাদের কর্মী বলে দাবি করলেও সরেজমিনে সাবগ্রাম মাস্টারপাড়ায় গিয়ে তাঁর প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে এমন দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। সাবগ্রাম মাস্টাপাড়ার বাসিন্দা আজিজুল হক প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে মিজানুর তাঁর বাসায় ভাড়া থেকে পোলট্রি ও হ্যাচারি ব্যবসা করতেন। মিজানুরের আদি বাড়ি কুমিল্লায়। স্থানীয় লোকদের দাবি, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে মিজানুরকে খুন করে তাঁকে জামায়াতকর্মী বলে চালিয়ে দিয়ে কেউ স্বার্থসিদ্ধি করতে পারে।
বাসার মালিক আজিজুল হক আরও বলেন, ‘মিজানুর জামায়াত কেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই তাঁর কোনো সম্পর্ক ছিল না। তিনি নিরীহ প্রকৃতির লোক ছিলেন। ব্যবসা ছাড়া কোনো কিছুই তিনি বুঝতেন না।’ সাবগ্রাম বাজারের হ্যাচারি ও পোলট্রি খাদ্য ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘মিজানুর একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। জামায়াতের কোনো মিছিল-মিটিংয়ে তাঁকে কখনো দেখা যায়নি এবং জামায়াতের কারও সঙ্গে কোনো সম্পর্কও ছিল না। কী কারণে কারা তাঁকে এভাবে মারল, সেটাও বোঝা যাচ্ছে না।’
মিজানুরের স্ত্রী হালিমা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী কোনো রাজনীতি করতেন না। তিনি বাসা থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি নিহত হন।
সাবগ্রাম বাজারের মুদি দোকানি গৌড় চন্দ্র বলেন, মিজানুর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি বাসা থেকে হেঁটে সাবগ্রাম বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন । এ সময় ওত পেতে থাকা ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী তাঁকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। তিনি দৌড়ে বাঁচার চেষ্টা করেও লুটিয়ে পড়েন ও মারা যান।
বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. মোজাম্মেল হকও দাবি করেন, নিহত মিজানুর রহমান জামায়াতের কেউ নন। তিনি কুমিল্লা থেকে বগুড়ার সাবগ্রামে গিয়ে ব্যবসা করতেন। তাঁর ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে পরিকল্পিতভাবে খুন করে কেউ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করছে বলেই প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য
সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন








২০১৩.০১.৩১ ২১:৪২Md.Shahidul Islam
২০১৩.০১.৩১ ২১:৫৩M. Wazir Hossain
২০১৩.০১.৩১ ২২:৪৬Md.Habib Zaman (Malaysia)
২০১৩.০১.৩১ ২৩:১০zahirul islam
২০১৩.০১.৩১ ২৩:৩৪