সিরিয়ায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় উদ্বিগ্ন রাশিয়া
সিরিয়ায় ইসরায়েলি বিমান হামলার অভিযোগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। এ ধরনের হামলা জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে মস্কো। আজ বৃহস্পতিবার বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সিরিয়ার সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গতকাল বুধবার দেশটির রাজধানী দামেস্কর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সামরিক গবেষণাকেন্দ্র লক্ষ্য করে ইসরায়েলের জঙ্গি বিমান হামলা চালায়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত সিরিয়ার সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ওই হামলায় দুই ব্যক্তি নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
এর আগে কয়েকটি ইসরায়েলি প্রচারমাধ্যমে বলা হয়, লেবাননের হিজবুল্লাহদের জন্য কিছু অস্ত্র একটি ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাই ইসরায়েল ওই ট্রাকটিতে হামলা করেছে। তবে এ ধরনের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে দামেস্ক।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘যদি এ তথ্য নিশ্চিত হয়, তাহলে তা হবে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই হামলা। এটা জাতিসংঘের সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং অগ্রহণযোগ্য। এই হামলার ক্ষেত্রে কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।’
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটেছে। অন্যদিকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ মস্কোর ঘনিষ্ঠ মিত্র। সিরিয়ায় প্রায় দুই বছর ধরে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট আসাদকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া।
সিরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও রাসায়নিক অস্ত্র লেবাননের কট্টরপন্থী হিজবুল্লাহর হাতে যেতে পারে বলে ইসরায়েলের উদ্বেগ প্রকাশের পরপরই সামরিক গবেষণাগারে বিমান হামলার অভিযোগ তুলেছে দামেস্ক।
ইরানও এই হামলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিন্দা জানিয়েছে। তেহরান আগেই ঘোষণা দিয়েছে, মিত্র দেশ সিরিয়ার ওপর যেকোনো ধরনের ইসরায়েলি হামলা ইরানের ওপর হামলার শামিল বলে গণ্য হবে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই ঘটনা ওই অঞ্চলে কূটনৈতিক উত্তেজনা ছড়াতে পারে।
এদিকে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা গতকাল বুধবার সিএনএনের কাছে সিরিয়ার একটি সন্দেহভাজন অস্ত্রবাহী গাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ওই গাড়িটি হিজবুল্লাহকে অস্ত্র সরবরাহ করার জন্য লেবাননের দিকে যাচ্ছিল।
অপর একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ওই গাড়িটি রাশিয়ায় তৈরি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এসএ-১৭-এর যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সামরিক উপকরণ বহন করছিল। ইসরায়েলে হামলার কাজে এই অস্ত্র ব্যবহূত হতো। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন