
তরুণ তারকা
নিজেকে ছাড়িয়ে চৈতি
এমিলিয়া খানম | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩
খুব দ্রুতই চট্টগ্রাম ছেড়ে ঢাকায় ডেরা বাঁধতে যাচ্ছেন তরুণ তারকা কণ্ঠশিল্পী চৈতি মুৎসুদ্দি। এখন আর আগের মতো এখানকার মঞ্চে তাঁকে যখন-তখন দেখা যাবে না। তবে হয়তো ঘন ঘন দেখা মিলবে টিভি পর্দায় অথবা নিত্যনতুন অ্যালবামে।
চট্টগ্রামে লেখাপড়ার পাট একরকম চুকে গেছে। ইউএসটিসিতে (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের শেষ বর্ষের পরীক্ষা দিচ্ছেন এখন। পরীক্ষা শেষেই তলপি-তলপা গুটিয়ে ঢাকায় যাবেন। ২০০৯ সালে চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠে দ্বিতীয় হওয়া চৈতি ঢাকায় না থাকার কারণে সংগীতশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে পারেননি। পড়াশোনা শেষে ঢাকায় স্থায়ী হতে আর বাধা নেই।
চৈতি বলেন, ‘টিভির বিভিন্ন অনুষ্ঠান কিংবা অ্যালবামের কাজে যখন ডাক পেয়েছি, তখন পড়াশোনার চাপের কারণে যেতে পারিনি। তা ছাড়া আমার ওস্তাদ অনুপ বড়ুয়া ঢাকায় থাকেন। ঢাকায় স্থায়ী হলে গানের জন্য পুরো সময়টা দেওয়া যাবে।’
সামনে বেশ কিছু অ্যালবামের কাজ করবেন বলে জানালেন চৈতি। এ পর্যন্ত একক অ্যালবাম না করলেও বেশ কিছু মিশ্র অ্যালবামে কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে ফুয়াদের সংগীতায়োজনে তাঁর গাওয়া ‘কাগজের নৌকা’ গানটি শ্রোতাদের ভালো লেগেছে। সুবীর নন্দী ও শাম্মী আখতারের মতো জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের সঙ্গেও স্মৃতির শহরে নামের মিশ্র অ্যালবামে গান গেয়েছেন। বর্তমানে একটু একটু করে নিজের প্রথম একক অ্যালবামের কাজ গোছাচ্ছেন তিনি। তবে তার আগে আরও কিছু মিশ্র অ্যালবামেও কাজ করছেন। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে লেজার ভিশেনর একটি মিশ্র অ্যালবামেও গাইবেন। ইবরার টিপুর সঙ্গে একটি দ্বৈত গানে কণ্ঠ দেবেন এ অ্যালবামে। এতে আরও গাইবেন চম্পা বণিক, মাহমুদ সানি, বেলাল খান প্রমুখ।
মানসম্পন্ন গান দিয়েই নিজের ক্যারিয়ার সাজাতে চান চৈতি। এ প্রসঙ্গে তাঁর কথা হলো, ‘আমি পড়াশোনার জন্য এত দিন গান নিয়ে তেমন সিরিয়াস হতে পারিনি। বিশেষ করে অ্যালবামের কাজও শুরু করতে পারিনি। তবে নতুন বছরে নতুন করে ভাবছি এবার। নতুন বেশ কিছু গানই এ বছর শ্রোতাদের উপহার দিতে চাই। সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।’
লেখাপড়া তো শেষ, বিয়ে-শাদির কথা কিছু ভাবছেন? এমন প্রশ্নে সলজ্জ হেসে চৈতি বলেন ‘না, নিজেকে যে জায়গাটাতে দেখতে চাই সেখানে এখনো পৌঁছাতে পারিনি। তাই এসব নিয়ে এখনো ভাবছি না।’
পছন্দের কেউ কি আছেন? জানতে চাইলে চৈতির ঝটপট উত্তর, ‘না নেই, আর এটা বাবা-মার ওপরই ছেড়ে দিয়েছি, এই রিস্ক আমি নেব না।’