Prothom Alo

দ্বিখণ্ডিত সড়ক বিচ্ছিন্ন নাজিরপাড়া

আশরাফ উল্লাহ | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

নালা পুনর্নির্মাণের জন্য সড়কের মাঝ বরাবর খুঁড়ে ফেলা হয়েছিল গত বছরের মে মাসে। প্রশস্ত ও উঁচু হবে নালা, কমবে জলাবদ্ধতা—এই আশায় বুক বাঁধেন এলাকাবাসী। কিন্তু মাসের পর মাস যায়, নালার নির্মাণকাজ আর শেষ হয় না। আর এই দ্বিখণ্ডিত সড়কটির জন্য শহর থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে আছেন প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। এ অবস্থা চান্দগাঁওয়ের গোলাম আলী নাজিরপাড়া এলাকার। সড়কটির নাম পাঠানিয়াগোদা।
স্থানীয় লোকজন জানান, গত বছরের জলাবদ্ধতা এখানকার জনজীবন বিপর্যস্ত করে ফেলেছিল। এলাকাবাসীর দাবি ছিল নালা সংস্কারের। সেই দাবি পূরণ করতে গিয়ে লেজেগোবরে করে ফেলল সিটি করপোরেশন। গোদের উপর বিষফোড়ার মতো হলো সড়কটি। গাড়ি চলাচল তো বন্ধই, মানুষের হাঁটাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। আর তাই অনেকটা অবরুদ্ধ হয়ে আছেন এলাকাবাসী। নির্মাণাধীন নালার ওপর ঝুঁকি নিয়ে হাঁটতে গিয়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেকে। বিশেষ করে নগরের বিভিন্ন বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীরা ভোগান্তি পোহাচ্ছে বেশি।
এলাকার বাসিন্দা হাজী মুহম্মদ মুহসীন কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শফিউল আজম বলেন, ‘প্রতিদিন দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। তাদের মধ্য অর্ধশতাধিক শিশু। নালার ওপর দিয়ে চলাচল করতে বড়দেরই কষ্ট হয়, সেখানে শিশুদের ব্যাপারটি বুঝতেই পারছেন। আমাদের এলাকাটি যেন এখন কষ্টের হাট!’
সরেজমিনে দেখা গেছে, নালা নির্মাণের জন্য পাঠানিয়াগোদা সড়কের চুনারটাল এলাকায় প্রায় ৩০০ ফুট খোঁড়া হয়েছে। খোঁড়া মাটি রাখা হয়েছে পাশেই স্তূপ করে। এমনিতে রাস্তা কাটা, তার ওপর সেখানে মাটি স্তূপ করে রাখায় পথ চলতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন আশপাশের বাসিন্দারা। কাজ করছেন চার-পাঁচজন শ্রমিক। তাঁরা নালার দেয়ালে ইটের গাঁথুনি দিচ্ছিলেন। সেখানে কাজ তদারকের দায়িত্বে থাকা রওশন আলী জানান, যে গতিতে কাজ চলছে, তাতে শেষ হতে আরও এক মাস সময় লাগবে। এরপর স্ল্যাব বসানোর কাজ শুরু হবে।
এদিকে নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেন আশপাশের বাসিন্দারা। আবদুল মান্নান নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘নির্মাণকাজে তিন নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। সিমেন্টের বদলে বালু দেওয়া হচ্ছে বেশি। এলাকার লোকজন প্রতিবাদ করলে কাজ কয়েক দিন বন্ধ থাকে। পরে আবার শুরু হয়।’
বিষয়টি স্বীকার করেন চান্দগাঁও ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাহবুব আলমও। তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন কাজের নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে এক নম্বর ইট ব্যবহার করা হয়। কাজ কখন শেষ হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মেয়র মহোদয় জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ১ ফেব্রুয়ারি ওই এলাকা পরিদর্শন করবেন।’ ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় সূত্র জানায়, কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬ লাখ টাকা। কার্যাদেশ অনুযায়ী মে মাসে কাজ শুরু হয়ে সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে শেষ করার কথা। কিন্তু আট মাস হতে চললেও এখনো কাজ শেষ হয়নি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঠিকাদার ফজলুল হক সিরাজী প্রথম আলোকে বলেন, ‘কার্যাদেশ যখন পাই, তখন ঘোর বর্ষা। তার পরও কিছু কাজ করি। কিন্তু পরে আর কাজ করা সম্ভব হয়নি। তা ছাড়া যেটুকু কাজ করেছি, সেই অংশের অর্থ ছাড় হতেও দেরি হওয়ায় কাজ বন্ধ ছিল কয়েক মাস। এখন পুরোদমে কাজ চলছে।’ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার প্রসঙ্গে বলেন, ‘কাজে অনিয়মের প্রশ্নই আসে না। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ঝামেলা পাকাতে চেয়েছিল। পরে ওয়ার্ড কাউন্সিলর তা সমাধান করেন।’

সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন : ৮১১০০৮১,৮১১৫৩০৭-১০, ফ্যাক্স : ৯১৩০৪৯৬
ই-মেইল :info@prothom-alo.com