Prothom Alo

প্রতিরক্ষা

সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন ও অস্ত্র ক্রয়

এম সাখাওয়াত হোসেন | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

রাশিয়া সফরকালে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরের সময় রাশ স্বাধীনতার পর থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংগঠিত বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী পাঁচ দশকে পড়েছে। উপমহাদেশের প্রধান দেশগুলোর সামরিক বাহিনী উপনিবেশবাদের ধারাবাহিকতায় জন্ম নিয়েছিল। পৃথিবীর স্বল্পসংখ্যক দেশের সামরিক বাহিনীর জন্ম জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। একে বলা যায় ‘আর্মড ফোর্সেস অব লিবারেশন।’ বাংলাদেশও এই গৌরবের অধিকারী।
গত চার দশকে দেশের সামরিক বাহিনী বহু চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে। বিস্মিত হতে হয়, কীভাবে একটি নবীন অথচ সুদক্ষ সামরিক বাহিনী এত অল্প সময়ে বিশ্বে এতটা সুনাম অর্জন করেছে, বিশেষ করে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে শামিল হয়ে। বাংলাদেশ বর্তমানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সর্ববৃহৎ সক্ষম সেনা মোতায়েনকারী দেশ। এর স্বীকৃতিও আমরা পেয়েছি। জাতিসংঘের অন্যতম আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল আমিরাহ হক বাংলাদেশেরই নাগরিক। সম্প্রতি ঢাকায় এসে তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা ছাড়াও উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত রয়েছে। প্রায় তিন দশক থেকে সেনাবাহিনীর ‘কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স’ সম্পৃক্ত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবকাঠামো নির্মাণে যে অবদান রেখেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নগুলোকে কাঠামোগতভাবে উন্নতি করে জাতীয় পর্যায়ে বড় বড় কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করায় সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বাস্তবায়ন যেমন দ্রুত শেষ হচ্ছে, তেমনি প্রশংসিত হয়েছে। হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ী প্রকল্প, স্টাফরোড-সংলগ্ন এয়ারপোর্ট রোডের ওভারপাস সমাপ্তির পথে, কুড়িল ও মিরপুর সংযোগকারী উড়ালসড়ক—তাদের সফল কর্মকাণ্ডের উদাহরণ। সেনাবাহিনীর উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ। ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজও করছে সেনাবাহিনী। এসব কাজে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের দক্ষতা, একাগ্রতা, নিষ্ঠা এবং সর্বোপরি বেসামরিক কর্তৃপক্ষ ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার মানসিকতা প্রশংসার দাবি রাখে। হাতিরঝিল প্রকল্প উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নির্মাণেও সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততার আশা প্রকাশ করেন।
সামরিক বাহিনীর আরেকটি কৃতিত্ব ছবিসহ ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতে সহযোগী হওয়া। নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে সেনাবাহিনী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আট কোটির ওপর ভোটারের শুধু ছবিসহ ভোটার তালিকাই নয়, জাতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করেছে। তৈরি করেছে ডেটাবেইস। স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে এ তালিকা যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে, তা সর্বজনবিদিত।
বিগত চার দশকে সামরিক বাহিনীর যে আধুনিকায়নের প্রচেষ্টা চলছে, তা গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর সময়েই গতি পেয়েছে। তবে এও ঠিক যে, সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন শুধু আধুনিক সমরাস্ত্র সংযোজনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয় না; প্রয়োজন অন্যান্য উপাদানের বৃদ্ধি ও বিকাশ। মোটা দাগে তিনটি ক্ষেত্র চিহ্নিত। প্রথমত: সাংগঠনিক অবকাঠামো, দ্বিতীয়ত: প্রশিক্ষণ, যার মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ; তৃতীয়ত: অস্ত্রায়ণ অবকাঠামোগত আধুনিকায়নে সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হবে প্রতিরক্ষা নীতি, অস্ত্রনীতি ও ফোর্সেস গোল। প্রশিক্ষণের জন্য যেসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন, তার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে; দেশেই এসব প্রতিষ্ঠান আধুনিক সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণকাঠামো তৈরি ও প্রশিক্ষণ দিতে পারে। একই সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য উচ্চপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও যুক্ত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, ওয়ার কলেজ, এমআইএসটি ও আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার মতো কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হালে যুক্ত হয়েছে ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (BUP)। এসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে শুধু সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারাই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন না, প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন বেসামরিক কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরাও। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের আমলে সামরিক স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর উচ্চপর্যায়ের প্রশিক্ষণ দিতে দ্বিতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান হয়নি।
বর্তমানে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ বিশ্বের অন্যতম উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত। বহু দেশের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা এখানে আসেন প্রশিক্ষণ নিতে। এই প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়ের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশিক্ষণের বিদ্যাপীঠ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। শুধু প্রশিক্ষণই নয়, এ প্রতিষ্ঠানে বেসামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতির মাধ্যমে বেসামরিক-সামরিক সম্পর্কও সুদৃঢ় হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে ‘ক্যাপসস্টোন’ নামক স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণে রাজনীতিবিদদের সম্পৃক্ততা বেসামরিক-সামরিক সম্পর্ক উন্নয়নের আরেক মাত্রা যোগ করেছে।
বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশিক্ষণ ও বেসামরিক-সামরিক সম্পর্ক স্থাপনে বিগত কয়েক বছরে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা নীতি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদিত হয়েছে; যদিও এই নীতি সর্বসম্মতিক্রমে প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংসদীয় কমিটি দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। এরই আঙ্গিকে রচিত ফোর্সেস গোল (Forces Goal) প্রণীত হয়েছে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। মাত্র কয়েক দিন আগে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী যিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীও বটে, জানিয়েছেন যে ১৯৭৪ সালে প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতির পরিপ্রেক্ষিতেই সামরিক বাহিনী পরিচালিত হচ্ছে। তবে যেহেতু ওই নীতি প্রায় ৩৮ বছরের পুরোনো এবং এই সময়ের মধ্যে সামরিক বাহিনীর ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে, কাজেই ওই নীতি বর্তমান প্রেক্ষাপটে কতখানি কার্যকর, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। তবে ওই প্রতিরক্ষা নীতির পরিপ্রেক্ষিতে অস্ত্রনীতি প্রস্তুত হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। সাধারণত এসব নীতি বিস্তারিতভাবে জনসম্মুখে আলোচিত হয় না, তবে সংসদের বিশেষ কমিটিতে আলোচিত হতে পারে।
আমাদের সামরিক বাহিনী দুই প্রজন্মের মাত্র, কাজেই এর রীতিনীতি ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে শুধু নীতিনির্ধারকেরাই নন, দেশের বহু জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তির মধ্যেও ভুল ধারণা রয়েছে। এসব কারণেই দেশের প্রতিরক্ষা নীতি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত বলে মনে করি। প্রয়োজনে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে বিশেষ ব্যবস্থায় এ আলোচনা হতে পারে।
সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের তৃতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রটি হলো অস্ত্রায়ণ। আমি অস্ত্রায়ণকে তৃতীয় পর্যায়ে রেখেছি। কারণ, প্রথম দুটি ক্ষেত্র তৈরি না হলে অস্ত্রায়ণে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায় না। অস্ত্রায়ণের জন্য প্রয়োজন সাংগঠনিক অবকাঠামো ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ। অস্ত্রায়ণ হয় দেশের প্রতিরক্ষা নীতির প্রেক্ষাপটে এবং অস্ত্রনীতির পরিপ্রেক্ষিতে। অস্ত্রায়ণ নির্ভর করে সামরিক বাহিনীর লক্ষ্য, ভৌগোলিক পরিবেশ, সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাপনা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আর্থিক সামর্থ্যের প্রেক্ষাপটে।
সামরিক বাহিনীর স্থির লক্ষ্য অনুযায়ী অস্ত্রনীতি রচিত হয়। এই অস্ত্রনীতি আগ্রাসী হলেও দেশের সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ড শুধু বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশ রক্ষার মৌলিক অধিকারের ভিত্তিতেই রচিত। তবে কোনো কোনো দেশ আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা নীতি গ্রহণ করে। যেমন ইসরায়েল মনে করে, যেহেতু তাদের দেশের অবস্থানগত ভিত দুর্বল, সেহেতুে তারা আগ্রাসী প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে থাকে। আমরা প্রতিবারই ইসরায়েলকে নিজের সীমানার বাইরে দেশ রক্ষার যুদ্ধে লিপ্ত হতে দেখেছি। যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রায় সব ন্যাটোভুক্ত দেশ তাদের প্রতিরক্ষার ধারণা ও প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অস্ত্রনীতি ও ধারণা (concept) তৈরি করে থাকে।
উপমহাদেশে ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা নীতিতে আগ্রাসী উপাদান আছে, যা উভয় দেশের অস্ত্রায়ণ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা নীতিতে কৌশলগত উপাদান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে রচিত। আমাদের প্রতিরক্ষা নীতিতে নেহাতই কারিগরি পর্যায়ে (tactical) যতটুকু আগ্রাসন সন্নিবেশিত থাকে, তেমনভাবে অস্ত্রায়ণের নীতিও ঠিক করতে হবে। হয়তো প্রতিরক্ষা নীতিতে তেমনই রয়েছে।
বিগত বছরগুলোতে দেশের সামরিক বাহিনীতে যে আধুনিকায়নের উদ্যোগ পরিলক্ষিত, তার মধ্যে অস্ত্রায়ণও রয়েছে। প্রতিরক্ষা নীতির বাইরে হলেও জাতিসংঘের মিশনের জন্যও কিছু অস্ত্র এবং কৌশলগত বাহন ক্রয় করতে হয়। যে কারণে বিগত জোট সরকারের সময় রাশিয়া ফেডারেশন থেকে বিটিআর-৮০ এবং বিমানবাহিনীর জন্য এমআই-১৭ কেনা হয়েছিল।
অস্ত্রায়ণের আধুনিকীকরণের প্রক্রিয়া বর্তমান সরকারের সময়ে যথেষ্ট গতি পেয়েছে। ইতিমধ্যেই নৌবাহিনীর জন্য সার্ভেইল্যান্স বিমান ও যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীতে হেলিকপ্টারসহ চীনে প্রস্তুত ৪৪টি মেইন ব্যাটল ট্যাংক ২০০০ (MBI-২০০০) কেনা হয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাশিয়া সফরের সময় সে দেশের রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে প্রদেয় ঋণে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অস্ত্র ক্রয়ে চুক্তি করেছেন, যা দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ অস্ত্র ক্রয় চুক্তি।
রাশিয়া থেকে মূলত বিমান ও সেনাবাহিনীর অস্ত্রায়ণ আধুনিকায়নের প্রয়াসে হেলিকপ্টার, অস্ত্র ও কৌশলগত যান কেনা হচ্ছে। যার মধ্যে, পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী রয়েছে, এমআই-১৭১, এস এইচ লজিস্টিক হেলিকপ্টার, ইয়াক-১৩০ জেট ট্রেইনার গামা-সি-১ই এবং কাস্তা ২ ই২। এর মধ্যে জেট ট্রেইনার রাশিয়া প্রথমবারের মতো তৈরি করছে বলে তথ্য রয়েছে। সেনাবাহিনীর তালিকায় রয়েছে স্বল্পপাল্লার ট্যাংক-বিধ্বংসী মিসাইল, বিটিআর-৮০ এবং ৮০কে (BTR-৮০, ৮০K) রিবন বা পিএমপি টাইপের ব্রিজ, স্বল্প দূরত্বে ট্যাংক পারাপারের জন্য মেকানাইজড ব্রিজ (AVLB), গ্রেনেড লঞ্চার ইত্যাদি।
উল্লেখযোগ্য যে চীন থেকেও উল্লিখিত ট্যাংক ক্রয় করা হয় দুই দেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের ব্যবস্থাপনায়। চীন থেকে এই ক্রয়ের উদ্যোগ ২০০৩ সালে নিলেও অর্থায়নের অভাবে এত বছর কার্যকর করা যায়নি, যা বর্তমান সরকারের সময়ে কার্যকর করা হয়। এটিও ছিল বড় ধরনের ক্রয়।
সামরিক বাহিনীর অস্ত্রায়ণে, বিশেষ করে সেনাবাহিনীর জন্য এই প্রথম রাশিয়া থেকে সরাসরি অস্ত্র, যাবতীয় কৌশলগত যান ও ব্রিজ কেনার চুক্তি করা হয়েছে। তথ্যমতে, এসব অস্ত্র সরবরাহ করা হবে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রোশোবোরন এক্সপোর্টের মাধ্যমে।
দেশের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের সমুদ্রের সম্পদ রক্ষার্থে নৌবাহিনীর কলেবরও বাড়ানো প্রয়োজন। অস্ত্র ক্রয় নতুন বিষয় নয়। কিন্তু বড় আকারের ক্রয় হলেই শঙ্কিত হই পূর্ববৎ অভিজ্ঞতার কারণে। এসব ক্রয় নিয়ে যৌক্তিক বা অযৌক্তিক আলোচনা হচ্ছে, যা সব দেশেই অল্প-বিস্তর হয়ে থাকে।
শুধু রাশিয়ার সঙ্গেই নয়, যেকোনো বড় ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় অন্তত সংসদের প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা হলে এতটা বিতর্ক হতো না। দুঃখজনক বিষয় হলো, আমাদের কোনো সরকারই সামরিক ক্রয় বা চুক্তি নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে না। অতীতের মতো বর্তমান চুক্তি নিয়েও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দুর্নীতি বা কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে তার জবাবও দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর রাশিয়া সফর শুধু অস্ত্র চুক্তির জন্যই হয়নি; বরং অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে আরও বহু বিষয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হয়েছে। কিন্তু আলোচনায় এসেছে অস্ত্র কেনার বিষয়টি। তাও তথ্য-উপাত্তের চেয়ে অভিযোগ পাল্টা-অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর ভূমিকা এবং এ অঞ্চলের দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক (Geo-Strategic) পরিবেশের সঙ্গে তাল রাখতে হলে এর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আধুনিকায়নের এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক কাম্য নয়। তবে এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকাও হতে হবে স্বচ্ছ এবং গণতান্ত্রিক রীতিসিদ্ধ।
গণতান্ত্রিক পরিবেশে বিতর্ক কাম্য, তবে তা বস্তুনিষ্ঠ ও যুক্তিনির্ভর হওয়া প্রয়োজন। সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন হতে হবে প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের যেসব পদক্ষেপ বর্তমান সরকার নিয়েছে, আশা করব, সে প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে। সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন কোনো সরকারের এজেন্ডা নয়, হতে হবে রাষ্ট্রীয় এজেন্ডা, যে কারণে প্রতিরক্ষা নীতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এত আলোচনা।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.): সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও কলাম লেখক।
hhintlbd@yahoo.com

সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন : ৮১১০০৮১,৮১১৫৩০৭-১০, ফ্যাক্স : ৯১৩০৪৯৬
ই-মেইল :info@prothom-alo.com