
তরুণী উদ্ধারে হান্নানের সাহসী ভূমিকা
‘ওর মতো মানুষ হয় না’
অরূপ রায় ও আব্দুল মোমিন | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩
মানুষের উপকারের জন্য সব সময় অর্থ আর ক্ষমতার প্রয়োজন হয় না, চাই মনোবল আর ইচ্ছা। তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মানিকগঞ্জের হান্নান (৩৮)। পরোপকারের সদিচ্ছার সঙ্গে অসীম সাহসকে সম্বল করেই পেশায় হকার এই মানুষটি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তরুণী ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
হান্নান মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার পশ্চিম সেওতা গ্রামের জামির হোসেনের ছেলে। কখনো বাসে আবার কখনো মহল্লায় ঘুরে ঘুরে সবজি, বাদাম বিক্রি করেন। চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী গত বৃহস্পতিবার নবীনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে পাটুরিয়াগামী শুভযাত্রা পরিবহনের বাসে ওঠেন। মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে অন্য যাত্রীরা নেমে গেলে বাসে শুধু ওই তরুণী, হেলপার আবুল কাসেম ও চালক দীপু ছিলেন। এ সময় দীপু তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এরপর দীপু বাস চালাতে থাকলে কাসেম তরুণীকে ধর্ষণ করেন।
হকার হান্নান ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাগজান এলাকায় বাসের ভেতর ধস্তাধস্তি দেখে ঘটনা বুঝতে পারেন। তিনি দ্রুত অন্য একটি বাসে উঠে শুভযাত্রা পরিবহনের ওই বাসটিকে অনুসরণ করতে থাকেন। কিন্তু তাঁকে বহনকারী বাসটি এগিয়ে গেলে তিনি মহাসড়কের ঘিওর উপজেলার তরা সেতুর কাছে নেমে অপেক্ষায় থাকেন। বাসটি সেখানে এলে হান্নানকে দেখে চালক বাসটিকে ঘুরিয়ে মানিকগঞ্জের দিকে চলতে থাকেন। হান্নানকে ওই চালক ও হেলপার আগে থেকেই চিনতেন। হান্নান আবার বাসটির পিছু নেন। একপর্যায়ে ধর্ষকেরা মানরা সেতুর কাছে তরুণীটিকে বাস থেকে ফেলে দিয়ে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে বাস রেখে পালিয়ে যান।
হান্নান তখন স্থানীয় লোকদের সহায়তায় মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। হান্নান প্রথম আলোকে বলেন, মেয়েটিকে সহায়তা করায় এখন তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, মানুষের উপকার করতে গেলে হুমকি যেমন আসবে, আবার পক্ষের লোকেরও অভাব হবে না। হান্নানের প্রতিবেশী মানিকগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর মো. খৈমুদ্দিন বলেন, ‘মানুষের পাশে দাঁড়ানো হান্নানের অভ্যাস। ওর মতো মানুষ হয় না।’