Prothom Alo

ভারতের ‘পদ্মশ্রী’ খেতাব পেলেন ঝর্ণা ধারা চৌধুরী

নোয়াখালী অফিস | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

ঝর্ণা ধারা চৌধুরী সমাজকর্মের জন্য ভারত সরকারের ‘পদ্মশ্রী’ খেতাবে ভূষিত হলেন বাংলাদেশের গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সচিব ঝর্ণা ধারা চৌধুরী। গত শুক্রবার ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব টেলিফোনে তাঁকে এ স্বীকৃতির খবর দেন বলে জানিয়েছেন এই বিশিষ্ট সমাজকর্মী।
এ বছর ভারত ছাড়াও বিভিন্ন দেশের ৮০ জনকে পদ্মশ্রী পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঝর্ণা ধারা চৌধুরী একমাত্র বাংলাদেশি। পদ্মশ্রী ভারত সরকারের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান।
সম্মানজনক এ স্বীকৃতির খবর ছড়িয়ে পড়লে গতকাল শনিবার সকাল থেকে নোয়াখালীর গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টে ঝর্ণা ধারা চৌধুরীকে শুভেচ্ছা জানাতে ভক্ত, অনুরাগীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ সমবেত হন।
১৯৫৪ সালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগে প্রতিষ্ঠিত গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত হন ঝর্ণা ধারা চৌধুরী। এ ট্রাস্ট নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও কুমিল্লা অঞ্চলের প্রায় ১২ লাখ দরিদ্র মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রচেষ্টার পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি ও অহিংসা প্রসারের লক্ষ্যে কাজ করে।
চট্টগ্রামের প্রবর্তক সংঘের শিক্ষিকা এবং অনাথালয়ের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ঝর্ণা ধারা চৌধুরীর মানবসেবা শুরু হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রবর্তক সংঘের প্রায় ৫০০ শিশু ও কিশোরীকে তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে বাঁচাতে ভারতের আগরতলা নিয়ে যান।
ঝর্ণা ধারা চৌধুরী এর আগে ১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিক বাজাজ পুরস্কার, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওল্ড ওয়েস্টবেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি পুরস্কার, ২০০৩ সালে দুর্বার নেটওয়ার্ক পুরস্কার, ২০১০ সালে শ্রীচৈতন্য পদক, একই বছর চ্যানেল আই ও স্কয়ার কীর্তিমতী নারী পুরস্কার এবং ২০১১ সালে গান্ধী স্মৃতি শান্তি সদ্ভাবনা পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর জন্ম ১৯৩৮ সালের ১৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায়। চট্টগ্রামের খাস্তগীর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন ও ঢাকা কলেজ থেকে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন : ৮১১০০৮১,৮১১৫৩০৭-১০, ফ্যাক্স : ৯১৩০৪৯৬
ই-মেইল :info@prothom-alo.com