
রাজধানীর ইডেন কলেজের ছাত্রীর ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় হাইকোর্ট বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা উৎসাহব্যঞ্জক। তারা গহিন অরণ্যে অভিযান চালিয়েছে এবং অপরাধীকে ধরিয়ে দিতে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
আজ রোববার বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি মাহমুদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।
একই সঙ্গে আদালত এ বিষয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছেন।
গত বুধবার হাইকোর্ট ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামি মনিরউদ্দিন ও মাসুমকে গ্রেপ্তার করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারে পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে র্যাবের মহাপরিচালক ও গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরের দিন রাঙামাটির বরকল উপজেলার দুর্গম কুরকুটিছড়ি থেকে আনসার সদস্যদের সহায়তায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মনিরকে গ্রেপ্তার করে।
আজ সকালে রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার আদালতকে বলেন, মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি কুরকুটিছড়িতে রঙ্গু মিয়া চৌধুরীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। রঙ্গুর স্ত্রী মনিরকে ধরিয়ে দেন।
চান রঙ্গু মিয়া মনিরের আত্মীয় কি না, আদালতের এমন প্রশ্নের জবাবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, রঙ্গু মিয়ার সঙ্গে আসামি মনিরের আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। তিনি আরও জানান, অপর আসামিকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।
রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
অ্যাসিড নিক্ষেপের পর প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ২০ জানুয়ারি ফৌজদারি কার্যবিধিতে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর রিট আবেদন করে।
১৫ জানুয়ারি রাজধানীর চানখাঁরপুলের এক কাজি অফিসে ওই ছাত্রীকে অ্যাসিডদগ্ধ ও ছুরিকাঘাত করা হয়। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় মনির নামের এক যুবক এ ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনায় মনিরের বন্ধু মাসুম তাঁর সহযোগী হিসেবে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ছাত্রীর ভাই বংশাল থানায় মনির ও মাসুমকে আসামি করে মামলা করেন।