
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল মঙ্গলবার লেনদেনে আধিপত্য বিস্তার করেছে বস্ত্র খাত। এদিন ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ২০ শতাংশ জুড়েই ছিল বস্ত্র খাত। যদিও লেনদেন হওয়া বস্ত্র খাতের অধিকাংশ কোম্পানিরই দাম কমেছে। শুধু বস্ত্র খাত নয়, ঢাকার বাজারে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানিরই দরপতন ঘটেছে। সেই সঙ্গে লেনদেনও কিছুটা কমে গেছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কসমোপলিটন ফিন্যান্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিএসইর মোট লেনদেনের মধ্যে গতকাল বস্ত্র খাতের বাইরে বড় অংশ জুড়ে ছিল ভ্রমণ ও অবকাশ এবং ব্যাংক খাত। ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ১৫ শতাংশ ছিল ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের এবং ১৩ শতাংশ ছিল ব্যাংকিং খাতের।
খাতভিত্তিক লেনদেনের পাশাপাশি একক কোম্পানি হিসেবেও লেনদেনের শীর্ষস্থানে ছিল ইউনাইটেড এয়ার। এদিন এককভাবে কোম্পানিটির লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ২২ কোটি টাকা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ৮ শতাংশ। ইউনাইটেড এয়ারের পর লেনদেনে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের অপর কোম্পানি ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস। দিন শেষে কোম্পানিটির লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ২১ কোটি টাকা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ৭ শতাংশ।
এদিকে, নতুন-পুরোনো মিলিয়ে ঢাকার বাজারের তিনটি সূচকই গতকাল কমেছে। ডিএসইর পুরোনো সাধারণ সূচক ২৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ২২৮ পয়েন্টে। এই বাজারের নতুন দুই সূচকের মধ্যে সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ২৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় চার হাজার ১২৭ পয়েন্টে। গত সোমবার চার হাজার ৫৫ পয়েন্ট থেকে নতুন এই সূচকটির যাত্রা শুরু হয়। এরপর গত তিন কার্যদিবসে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৭২ পয়েন্ট।
এর বাইরে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্য থেকে বাছাই করা ৩০ কোম্পানিকে নিয়ে চালু হওয়া নতুন সূচক ডিএস-৩০ প্রায় ৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ৪৮৭ পয়েন্টে। এক হাজার ৪৬০ পয়েন্টের অবস্থান থেকে সোমবার নতুন এই সূচকটি চালু হয়েছিল।
এদিকে ছয় দিন পর গতকাল ঢাকার বাজারে দরপতন ঘটেছে। যদিও বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এটিকে মূল্যসংশোধন বলে অভিহিত করেছেন। তাঁরা বলছেন, কয়েক দিনের দরবৃদ্ধির পর বাজারে কিছুটা মূল্যসংশোধন হবে, এটাই স্বাভাবিক।
মূল্যসূচকের ঊর্ধ্বগতি দিয়েই গতকাল ঢাকার বাজারে লেনদেন শুরু হয়। তবে সেটি স্থায়ী হয়নি। এদিন ডিএসইতে ২৭২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৭৬টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ৭০টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৬টির দাম। দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৮৭ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৫৫ কোটি টাকা কম।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক প্রায় ৭৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৯২১ পয়েন্টে। সিএসইতে মঙ্গলবার ১৮৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৩২টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ৩১টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২০টির দাম। দিন শেষে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৭ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে চার কোটি টাকা কম।